অষ্টম শ্রেণি : বাংলা

অষ্টম শ্রেণি : বাংলা

অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ

আতাউর রহমান সায়েম, সহকারী শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মতিঝিল, ঢাকা

পদ্য

মানবধর্ম

লালন শাহ্

১।লালন মানুষের ধর্ম অভিন্ন মনে করেছেন কেন?

উত্তর : অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনায় বিশ্বাসী বলে লালন শাহ্ মানুষের ধর্ম অভিন্ন মনে করেছেন।

লালন শাহ্ মানবতাবাদী ও মরমি কবি। গানে তিনি নিজেকে ফকির লালন হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যা লাভ না করলেও নিজের চিন্তা ও সাধনায় তিনি হিন্দু-মুসলমানের ধর্মীয় শাস্ত্র সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি মানুষের জাতকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। মনুষ্য ধর্মই তাঁর কাছে মূল কথা। তাই মানুষ জাত ও ধর্মভেদে যে ভিন্নতার কথা বলে তা তিনি বিশ্বাস করেন না।

২।সব লোকে কেন লালনের জাত নিয়ে প্রশ্ন তোলে?

উত্তর : বিশেষ কোনো একটি ধর্ম পালন না করায় লোকে লালনের জাত নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

লালন শাহ্র জাত সম্পর্কে সবাই সন্দিহান। কারণ তিনি কোনো বিশেষ ধর্মের গণ্ডিতে আবদ্ধ নন। তিনি মানবধর্মে বিশ্বাসী। তিনি জাতি-ধর্ম বিশ্বাসীদের উদ্দেশ করে বলেন, কেউ মালা বা তসবি গলায় দিলেই কি ভিন্ন জাতি হয়? তিনি তা মনে করেন না। তিনি মনে করেন সব মানুষ সমান। তাই তাঁর কাছে জাত-পাত বলতে কিছু নেই। এ কারণেই সাধারণ মানুষ লালনের জাত নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

৩। ‘যাওয়া কিংবা আসার বেলায় জেতের চিহ্ন রয় কার রে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর : ‘যাওয়া কিংবা আসার বেলায় জেতের চিহ্ন রয় কার রে’ বলতে জন্ম ও মৃত্যুর সময় মানুষ কোনো চিহ্ন নিয়ে আসেও না, যায়ও না—সে কথা বোঝানো হয়েছে।

জাতি-ধর্মের কারণে মানুষ বিভিন্ন চিহ্ন ধারণ করে। নিজেদের অন্যদের থেকে আলাদা করে। কিন্তু লালন শাহ্ বলেন, কেউ মালা, কেউ তসবি গলায় দিলেই ভিন্ন জাতি হয়ে যায় না। কারণ মানুষ আসা-যাওয়ার সময় অর্থাৎ জন্ম-মৃত্যুর সময় কোনো জাতের চিহ্ন ধারণ করে না। তার মানে, যাওয়া কিংবা আসার বেলায় কারো কোনো জাতিচিহ্ন থাকে না। এই বিচারে মানুষের জাত-ধর্মগত ভেদাভেদ অবান্তর। তাঁর কাছে মানবধর্মই শ্রেষ্ঠ। তাই লালন শাহ্ ওই কথা বলেছেন।

৪।লালন ফকিরকে মানবতাবাদী মরমি সাধক বলা হয় কেন?

উত্তর : সহস্রাধিক মানবতার গান লেখা ও সুর দেওয়ার জন্য লালন ফকিরকে মানবতাবাদী মরমি সাধক বলা হয়।

লালন একজন মানবতাবাদী মরমি সাধক। লালন ফকির (১৭৭২-১৮৯০) সাধক সিরাজ সাঁইয়ের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে লালন সাঁই বা লালন শাহ্ নামে পরিচিতি অর্জন করেন। তিনি অসংখ্য আধ্যাত্মিক গান রচনা করে মানুষের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা জাগিয়ে তোলেন। অথচ তিনি লিখতেও জানতেন না, পড়তে ও জানতেন না। শুধু নিজের চিন্তা ও সাধনায় বিভিন্ন ধর্মীয় শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করেন। তিনি তাঁর গানের মাধ্যমে তা প্রকাশ করেন।

৫।   মানবধর্ম বলতে কী বোঝো?

উত্তর : জাত-পাতের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচয় মানুষ ভাবাই মানবধর্ম।

মানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচয় হচ্ছে সে মানুষ। এসব জাত-পাত সব মানুষের বানানো। কারণ কেউ তসবি, কেউ মালা পরলে যদি ভিন্ন জাতের হয় তবে জন্ম-মৃত্যুকালে কেউ এসব ধারণ করে থাকে না কেন? এর কারণ জাত-ধর্ম বলতে কিছুই নেই। সব মানুষ সমান। সব মানুষ একই রক্ত-মাংসে গড়া। সবার একটাই পরিচয় সে মানুষ, একটাই ধর্ম সবার-মানবধর্ম।

পদ্য

বঙ্গভূমির প্রতি

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

১।‘মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে’—কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে—লাইনটি দিয়ে কবি মাতৃভূমি যেন তাঁকে স্নেহধারা থেকে বঞ্চিত না করে তা বুঝিয়েছেন।

কবি মধুসূদন দত্ত মনে করেছিলেন যে তিনি বিলেতে না গেলে বড় কবি হতে পারবেন না। তাই তিনি স্বদেশ ত্যাগ করে বিলেতে যান। নিজের ভাষা এবং দেশ ত্যাগ করা যে তাঁর মারাত্মক ভুল হয়েছে, এটা ভেবে তিনি অনুতপ্ত হন। তাই জন্মভূমির কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, দেশমাতৃকা যেন তার স্নেহধারা থেকে তাঁকে বঞ্চিত না করে। তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তাঁকে যেন বক্ষে ধারণ করেন।

২।স্বদেশের প্রতি কবির শ্রদ্ধা ও একাগ্রতা প্রকাশের কারণ কী?

উত্তর : স্বদেশের প্রতি কবির শ্রদ্ধা ও একাগ্রতা প্রকাশের কারণ স্বদেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা।

দেশের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য থেকেই কবি স্বদেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও একাগ্রতা প্রকাশ করেছেন। কবি দেশকে নিজের মায়ের আসনে বসিয়েছেন। আর তাই সন্তান যেমন মায়ের কাছে মিনতি জানায়, ভালোবাসা নিবেদন করে, ঠিক সেভাবেই কবিও দেশকে ভালোবেসে নিজের ভালোবাসা নিবেদন করেছেন। দেশকে মায়ের স্থানে বসিয়েছেন তিনি। আর মাকে তিনি নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছেন এভাবে। জন্মভূমির প্রতিটি কণায় লেগে আছে তাঁর স্মৃতিময় ভালোবাসা। নিজের মাতৃভূমির প্রতি তাঁর এই অনুভূতি থেকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।

৩। ‘কহ গো শ্যামা জন্মদে’-বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর : কবি কোন গুণের জন্য অমরতা প্রত্যাশা করবেন সেই বিষয়টি জানতে শ্যামল জন্মভূমির কাছে প্রশ্ন করেছেন।

কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বিদেশে থাকলে দেশের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ আলোচ্য কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে। কবি দেশকে ভালোবাসেন বলেই স্বদেশের স্মৃতিতে অমর হয়ে থাকতে চান। কিন্তু তিনি মনে করেন, তাঁর এমন কোনো গুণ নেই যার কারণে তিনি অমরতা লাভ করতে পারেন। তবে তিনি নতুন করে সৃষ্টিশীল লেখা লিখে পাঠকের মনে অমর হয়ে থাকতে চান। কবি তাই শ্যামল জন্মভূমির কাছে উক্ত কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

৪।,মধুহীন করো না’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর : ‘মধুহীন করো না’ বলতে মাতৃভূমি কবিকে যেন স্নেহধারা থেকে বঞ্চিত না করে তা বোঝানো হয়েছে।

কবি মধুসূদন দত্ত মনে করেছিলেন যে, তিনি বিলেতে না গেলে বড় কবি হতে পারবেন না। বিদেশ যাওয়া যে তাঁর  মারাত্মক ভুল হয়েছে, এটা ভেবে তিনি অনুতপ্ত হন এবং জন্মভূমির কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন দেশমাতৃকা যেন তাঁকে স্নেহধারা থেকে বঞ্চিত না করেন। তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তাঁকে যেন বক্ষে ধারণ করেন সেই প্রত্যাশা করেছেন।

৫। ‘মনের মন্দিরে সদা সেবে সবর্জন’ পঙক্তিটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : কেউ যদি তার কর্মগুণ দিয়ে লোকের হৃদয়ে প্রবেশ করতে পারে তবে সর্বজনের মনের মন্দিরে সে স


Leave a Reply

Your email address will not be published.

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
২,০২৬,২১২
সুস্থ
১,৯৬৬,১০৭
মৃত্যু
২৯,৩৬৯
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
৫৩৫
সুস্থ
৪৭৬
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট

গ্যালারী

সম্পাদক : ইঞ্জি: কাজী সাব্বির আহমেদ

প্রকাশক : মোঃ নিজাম উদ্দিন

নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ শাকিল আহমেদ তিয়াস

সহঃ সম্পাদক : মোঃ সাইফুল ইসলাম আপন

বার্তা সম্পাদক : মোঃ জাকির হোসেন

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়মঅনুযায়ী তথ্য মন্ত্রণালয় বরাবর নিবন্ধনের জন্য আবেদিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল