মাগুরায় বিনা’র উদ্যোগে কৃষক প্রশিক্ষন অনুষ্ঠিত

মাগুরায় বিনা’র উদ্যোগে কৃষক প্রশিক্ষন অনুষ্ঠিত

 

মোঃ সাইফুল্লাহ মাগুরা প্রতিনিধিঃ জলাবদ্ধতা, লবনাক্ততা, সার ও পানি সাশ্রয়ী উচ্চ ফলনশীল লাগসই প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত বিনাধান-৮ থেকে ২৩সহ অন্তত ২২টি ফসলের উন্নত জাত উৎপাদনে দেশের কৃষি অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এরফলে দেশের কৃষকরা তাদের উচ্চফলনশীল ধান, মসুরি, সরিষা ও তিলসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ উৎপাদন করতে পেরে অনেক ক্ষেত্রেই খরচ কমিয়ে দ্বিগুন থেকে তিনগুন ফসল উৎপাদন করে স্বাবলম্বি হয়েছেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমানু কৃষি বিজ্ঞানি বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম২৭ আগস্ট শনিবার বিকেলে মাগুরায় এক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিনা) মাগুরা উপকেন্দ্রের প্রশিক্ষণ মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শেফাউর রহমানের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. মির্জা মোফাজ্জল। বক্তব্যে কৃষকদের কাছে মোফাজ্জল ধানের উদ্ভাবক হিসেবে পরিচিত ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম আরও জানান- তার উদ্ভাবিত লবনাক্ততা সহিষ্ণু বিনাধান-৮ ও বিনাধান -১০, জলমগ্নতা সহিষ্ণু বিনাধান-১১ ও বিনাধান-১২, সার ও পানি সাশ্রয়ী উচ্চ ফলনশীল বিনাধান-১৭, বন্যা ও লবনাক্ততা সহিষ্ণু বিনাধান -২৩সহ বিভিন্ন ফসলের ২২টি জাত দেশের উত্তর বঙ্গের মঙ্গা, দক্ষিণবঙ্গের লবনাক্ততা ও দেশের বিভিন্ন অংশে বন্যা কবলিত এলাকায় ধানের উৎপাদন দ্বিগুন থেকে তিনগুন হয়েছে। সেইসঙ্গে বিশে^র সর্বাধুনিক প্রযুক্তিকে দেশীয় জলবায়ুর সাথে খাপ খাইয়ে আধুনিক কৃষিকে কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় করতে পেরে বর্তমানে কৃষকদের আয়ও বহুলাংশে বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, বর্তমান বিশে^র দ্রব্যমূল্যের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে-কৃষকদের আয় বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। আর স্বল্প জমিতে আয়বৃদ্ধি করতে গেলে কৃষকদের সর্বাধুনিক কৃষি প্রযুক্তির কোন বিকল্প নেই। এ অবস্থায় যুগোপযোগি কৃষি প্রযুক্তিই পারে তাদেরকে সমৃদ্ধ জীবন দিতে।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঝিনাইদহ এটিআই এর অধ্যক্ষ কৃষিবিদ সুশান্ত কুমার প্রামানিক, মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সুফি মোঃ রফিকুজ্জামান, বিনা উপকেন্দ্র মাগুরার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৈয়দ তানভীন আবির, রোকাইয়া সুলতানাসহ অন্যরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষানি স্মৃতি রানী বিশ্বাস বলেন, বছরের অধিকাংশ সময় জলমগ্ন থাকা তার প্রায় ৩ বিঘা জমিতে তিনি এখন বিনাধান-১১ চাষ করছেন। এ জমিগুলি থেকে ইতিপূর্বে তিনি কোন ফসলই পেতেন না। একই ভাবে তার গ্রামের বহু অনাবাদি জমি এখন আবাদি হয়ে উঠেছে। এরফলে কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। সদরের ইটখোলা গ্রামের কৃষক মো: হাবিবুল্লাহ জানান, ইতিপূর্বে তিনি যেসব জমিতে মোটাধান উৎপাদন করতেন সেখানে গত ২ বছর ধরে তিনি বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন। এ জাতের ধান একরে অন্তত ৭০মন উৎপাদন হয় এবং এর চাল চিকন হওয়ায় বাজারে দাম বেশি পাচ্ছেন । স্বল্পজীবনকাল হওয়ায় এ জাতের ধান উৎপাদনে তারা আর্থিকভাবে অনেক লাভবান হচ্ছেন। এছাড়া বিনার ধান, সরিষা, ডাল উৎপাদন করে আর্থিক ও সময়ের দিক থেকে লাভবান হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে আসা কৃষক রাজেদুল ইসলাম, রাজবাড়ির কৃষক জিয়াউর রহমান, মাগুরার কৃষক মো: মোস্তাফিজুর রহমান মন্নু, আবুল কালাম আজাদ, শওকত হোসেন, খালিলুর রহমান বিশ্বাস, আব্দুল লতিফসহ বিভিন্ন কৃষক। এ সময় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণের জন্য উন্নত মানের পাত্রসহ আনুষাঙ্গিক সামগ্রী বিনামূল্যে সরবরাহের জন্য বিনা মহাপরিচালকের কাছে দাবী জানান।


Leave a Reply

Your email address will not be published.

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
২,০২৬,২১২
সুস্থ
১,৯৬৬,১০৭
মৃত্যু
২৯,৩৬৯
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
৫৩৫
সুস্থ
৪৭৬
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট

গ্যালারী

সম্পাদক : ইঞ্জি: কাজী সাব্বির আহমেদ

প্রকাশক : মোঃ নিজাম উদ্দিন

নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ শাকিল আহমেদ তিয়াস

সহঃ সম্পাদক : মোঃ সাইফুল ইসলাম আপন

বার্তা সম্পাদক : মোঃ জাকির হোসেন

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়মঅনুযায়ী তথ্য মন্ত্রণালয় বরাবর নিবন্ধনের জন্য আবেদিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল